বাড়িতে মাশরুম চাষের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন

 মাশরুম এর সঙ্গে আমরা অনেকে পরিচিত। মাশরুম সুস্বাদু পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাবার। এতে আছে প্রোটিন ভিটামিন মিনরেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিবায়োটিক অ্যামাইনো এসিড। এটি  স্বাদ, পুষ্টি ঔষধি গুনসম্পন্ন হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 


এটি চাষ পদ্ধতি সহজ। এর কারণে অনেকেই  অনেক আগ্রহী মাশরুম চাষ করতে। , এটি বাড়িতে ঘরোয়া ভাবে চাষ করা যায়। মাশরুম চাষ আমাদের দেশে বেকার সমস্যার সমাধান এবং বাড়তি আয়ের উৎস হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলুন তাহলে আজকে আমরা এই মাশরুম চাষ সম্পর্কে জেনে নেই

পোস্ট সূচিপত্রঃ বাড়িতে মাশরুম চাষের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন,

  • মাশরুম কি
  • যেভাবে ঘরে বসে মাশরুম চাষ করবেন
  • মাশরুম কোথায় চাষ করা হয়
  • কত দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায়
  • মাশরুম চাষের সুবিধা

মাশরুম কি

ব্যাঙের ছাতার মতো মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ। এটি খুবই পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণযুক্ত উদ্ভিদ। প্রাচীন রোম, গ্রিক, ভারতীয় সাহিত্যে মাশরুম একটি সুস্বাদু ও লোভনীয় খাদ্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্বাভাবিক খাবারের মতে মাশরুম খাওয়া হয়। ২০ শতকের শুরুতে ইউরোপে প্রথম মাশরুম চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু হলেওবাংলাদেশের এর চাষ ৮০ দর্শকের পর শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়েস্টার জাত বাণিজ্যিকভাবে বেশি পরিচিত। ওয়েস্টার চাষ করতে অনেক সুবিধা রয়েছে। এটি কম খরচে খুব সহজে চাষ করা যায়। চলুন এতক্ষণ আমরা মাশরুম সম্পর্কে জানলাম এরপর আমরা মাশরুম চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

যে ভাবে ঘরে বসে মাশরুম চাষ করবেন

বাংলাদেশ এ দিন দিন মাশরুম চাষ বেড়েই চলছে। মাশরুম চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে কৃষকেরা যেখানে সেখানে মাশরুম চাষ করছে। মাশরুম চাষ করতে তেমন কোন জায়গা বা জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়িতে থাকা ছোটখাটো বাগানে মাশরুম চাষ করা যাই। মানুষ মনে করে এটি চাষ করা অনেক কঠিন। তবে এটি চাষ করার তেমন কোনো পরিশ্রম লাগবেনা। শুধু একটু যত্ন নিলেই চলবে। 


এটি চাষ করতে মাটি বা রোদ কোনটাই প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশের জলবায়ু ও আবহাওয়া মাশরুমের জন্য অনেক উপযোগী। সারা বিশ্বে নানান ধরনের ফসল চাষ হয় তবে বাংলাদেশ তিন ধরনের মাশরুম বেশি চাষ হয়, ওয়েস্টার , মিল্কি , ঝিনুক , প্যাডি স্ট্রো , জাতীয় মাশরুম বাংলাদেশের বেশি চাষ হয়ে থাকে।
  1. ওয়েস্টার এই জাতটি শীতকালে চাষ করা যায়, এমন কি বর্ষাকালেও এই ফলন পাওয়া যায়।
  2. বাকি ২টির চাষ মার্চ মাসে হালকা শীত ও ঠান্ডা কমতে শুরু করলে চাষ করা হয়।
চলুন এখন কিভাবে কিভাবে মাশরুম চাষ করতে হয় তা জেনে নিবোঃ


  1. প্রথমে ১ ইঞ্চি মাপের খড় কেটে ফুটন্ত গরম পানিতে২০\৩০ মিনিট ফুটিয়ে জীবনমুক্ত করতে হবে। অথবা ব্লিচিং পাউডার ও চুন মেশানো পানিতে২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন।
  2. ফুটো না ভিজিয়ে রাখা ঘরকে প্যাকেটে করে উপুর করে রাখুন যাতে অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে যায়।
  3. কেমন হবে যেন খড় চাপলে পানি না পডে কিন্তু হাতে নিলে ভেজা ভেজা ভাব থাকবে হাতে।
  4. খড় প্রস্তুত হয়ে গেলে এটি ঘরে নির্ধারিত স্থানে রেখে দিতে হবে।
  5. এরপর সংগ্রহীত মাশরুমের বীজ একটি স্পনের দুইপাশে গোল করে কেটে নিতে হবে।
  6. পলিথিন ব্যাগের মধ্যে দুই ইঞ্চি পুরো করে খড় বিছিয়ে তার ওপর থেকে ধার ঘেষিয়ে মাশরুমের বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে।
  7. আবার সেই বীজের উপর খড় দিয়ে আবার বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে।
  8. এভাবে৭ থেকে৮ স্তর করে পলিথিন ব্যাগ কয়েকবার দিয়ে কষিয়ে বাধতে হবে।
  9. প্রতিটি বার খড় বিছানোর সময় হাত দিয়ে ভালোভাবে চেপে দিতে হবে। যেন খড় এর ভেতর বাতাস না থাকে।
  10. সম্পূর্ণ প্যাকেট হয়ে গেলে ঘরের নির্দেশটা একটা জায়গায় রাখতে হবে ঝুলিয়ে দড়ির সাহায্যে।
  11. এ প্যাকেটে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার পানি দিন বা স্প্রে করুন।
  12. ৩ থেকে৪ দিন পর ব্যাগের ফুটো দিয়ে অংকুর বের হবে। তবে ব্যাগটি নির্দিষ্ট ঝুলিয়ে রাখার আগে ব্যাগটি বাড়ির দিক থেকে ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে। তাহলে সেই ছিদ্রগুলো দিয়ে ছিদ্র বের হবে।
  13. পরবর্তীতে খাবার উপযোগী হলে তা গোড়া কিছুটা রেখে কেটে তুলে নিতে হবে
  14. এই কিছুটা রাখা গোটা থেকে আবার পরবর্তীতে মাশরুম গজাবে।
  15. এক প্যাকেট থেকে পরপর তিনবার মাশরুম পাওয়া যায়। মাশরুম .২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।

মাশরুম কোথায় চাষ করা হয়

এতক্ষন আমরা জানলাম মাশরুম কিভাবে চাষ করা যায়, এখন আমরা জানবো কোথায় চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায় চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে নেই , গ্রীষ্মকালে যে কনো চালা ঘরের নিচে এবং বারান্দায় চাষ করা যায়। বর্ষাকালের পানি প্রবেশ করে না কিন্তু বাতাস চলাচলের সুবিধা আছে এমন ঘরের মাশরুম চাষ করে। এছাড়াও ভিজে স্যাত স্যাতে আন্ধকারে এর চাষ হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্ম বর্ষাকাল এ স্ট্র মাশরুম এবং শীতকালে ওয়েস্টার জাতের মাশরুম চাষ করা হই।

কত দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যাই

মাশরুম ঠিকমতো যত্ন পরিচর্যা করলে ২থেকে ৩ দিনেরএর মধ্যে মাশরুমের অংকুর বের হয়। তারপর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে যে অঙ্কুর গুলো বের হয় তার মধ্যে যেগুলো পড়ো সেগুলো রেখে ছোট গুলো উপরে ফেলতে হয়।১২ থেকে১৫ দিন এর মধ্যে খাওয়ার উপযোগী  হয়ে ওঠে.।২০ দিনের মধ্যে সবগুলো সংগ্রহ করা যায় এবং বাজারজাত করা যায়।


মাশরুম চাষের সুবিধা

মাশরুম অনেক পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণ যুক্ত। এর অনেকের চাহিদাকারণ এটি পুষ্টিহীনতা দূর করে। মাশরুম চাষে অনেক সামাজিক সুবিধা রয়েছে। মাশরুম চাষে খরচ কম। এবং বাড়তি জায়গা জমির প্রয়োজন হয় না। বসত বাড়িতে থাকার জায়গাতেই মাশরুম চাষ করা যায়। আলাদা কোন জমির বা বাগানের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়াও এটি খুব তাড়াতাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে পাওয়া যায়।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url